৩টি অসহায় দরিদ্র কর্মহীন পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোঃ মাসুম

৩ টি অসহায় দরিদ্র কর্মহীন পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোঃ মাসুম

এস কে মাহাবুব লেখা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুম এর চোখে পড়া মাত্রই চাল ডাল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ছুটে যাওয়া আর পাশে দাঁড়ানোর মানবিক দৃষ্টান্ত এখন পুরো উপজেলায় টক অব টাউনে পরিনত হয়েছে। শুধু তাই নয় টিএনও এমন মানবিকতার হাত দেওয়া সারাদেশে হয়েছে প্রসংসিত।

‘ঘর থেকে বের হলেই পুলিশের ধাওয়া আর লাঠিচার্জ। তাই পিটুনীর ভয়ে গত চারদিন ধরে সদরের উত্তর পাড়ার ভ্যান চালক নূরু মিয়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এ অবস্থায় দু’দিন হলো তার ঘরে রান্নার চুলাও জ্বলছে না। এরই মধ্যে রবিবার রাতে এক বছরের শিশুপুত্র প্রচন্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে, টাকার অভাবে সন্তানের চিকিৎসাও করাতে পারছিলেন না…………

অন্যদিকে করিম শাহ মাজারের পাশে খোলা আকাশের নীচে বসবাস এক বেদে পরিবার সরকারের সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার দরুন অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। এদিকে ছোট শিশু খাবার না পেয়ে কান্নাকাটি করছে……
পাশেই আরেক ৬০ বছরের বৃদ্ধ মন্তাজ মিয়া একদিন বিক্রি করলো ১৫ টাকা আরেকদিন ১২ টাকা তদুপরি ৫০০ টাকা পূঁজির অভাবে দুঃখে আত্মহত্যা করবে বলে কান্নায় ভেংগে পড়ে

নবীনগর উপজেলা সদরের এ তিনজন মানবিক ঘটনা ফেসবুকের কল্যাণে জানতে পেরে অনেকটা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এখানকার ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম।
পরে খোঁজ নিয়ে তিনটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে অসহায় ওই দুটি দরিদ্র পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আসা মানবিক কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেককে ২০ কেজি করে চাল, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি আটা, ২ কেজি তৈল, ২ কেজি পিয়াজ, ২ কেজি আলু, ২টি সাবান ও আনুষাঙ্গিক নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিতরণ করে এক অনুকরণীয় মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইউএনও মাসুম।
গত রবিবার দুপুরে ভ্যানচালক পরিবারের মাঝে আর আজ দুপুরে বেদে পরিবার আর মন্তাজ মিয়া পাশে দাঁড়িয়ে এসব মানবিক সাহায্য তুলে দেন তাদের হাতে
এই তিন অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো ঘটনা যেন নবীনগরের ইতিহাসে এক অনন্য উঁচু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে বিজ্ঞজনের অভিমত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *